• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

পূর্বপুরুষ স্মরণে ২০মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ রাষ্ট্রীয় ছুটি স্বীকৃতি দাবী

Reporter Name / ৮ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

পূর্বপুরুষ স্মরণে ২০মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ রাষ্ট্রীয় ছুটি স্বীকৃতি দাবী

স্মরণ সিং,মৌলভীবাজারঃ

“গাছ হ্যালিয়াই’গা, রুপিও মিল্যা গে” অর্থ্যাৎ গাছ নাড়া দিলেই টাকা পাবে লোভ’ লালসা দেখিয়ে চা শ্রমিকদের ভারতীয় উপমহাদেশের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে চা বাগান জন্মসৃষ্টি লগ্নে চা চাষের আগমন ঘটাতেই এসেছিলেন। তাঁদেরকে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ( আসাম,উড়িষ্যা, বিহার,ঝাড়খণ্ড)হইতে চা চাষের জন্য ব্রিটিশরা নিয়া আসছিলেন। কিন্তু বাস্তব দৃশ্য ঠিক উল্টো, উচু উচু পাহাড়,বন-জঙ্গল কাটা-পরিষ্কারে হিংস্র জীবজন্তু, বিষাক্ত সাপ, পোকা-মাকড় কামড়ে,দৈন্য দিনাতিপাতে চা শ্রমিকরা মারা গিয়েছে। চা শ্রমিকরা যখন বুঝতে পেরেছে মিথ্যা আশ্বাসে চা চাষে ব্যবহার করছে তখন তাঁদের সিদ্ধান্তনুসারে তাঁরা আবার পূর্বপুরুষ বা পিতৃভূমিতে ফিরে যাবার জন্য ১৯২১সালে ২০মে ” মুল্লুকে চলো” ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। পণ্ডিত গঙ্গাসাগর ও দেওশরণ নেতৃত্বে সিলেট রেলপথ ধরে বিভিন্ন চা বাগানের গুটি গুটি চা শ্রমিকরা সংঘবদ্ধভাবে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে জমায়েত হতে থাকে। সাথে শুকনো খাবার ও পানিও ছিল একমাত্র জল-আহার। এভাবেই পায়ে হেঁটে ১(এক) মাস অধিক সময়ে অতিক্রম করে চাঁদপুর লঞ্চঘাট প্লাটফর্মে রাত্রিতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখন ব্রিটিশ কোম্পানির নির্দেশে ডিভিশনাল কমিশনার নেতৃত্বে বেয়নেট” গোর্খা” বাহিনীর অঝোরে নারী, পুরুষ ও শিশুর উপর নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। বিশাল হত্যাকান্ড গুম করার লক্ষ্যে গোর্খা বাহিনী নিহত নিরীহ অসহায় চা শ্রমিকের পেট কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেয় যাতে লাশগুলো পানিতে না ভাসে। সেই চাঁদপুর লঞ্চঘাট নদীর পানিও রক্তে লাল হয়ে গেছিল। এভাবেই পূর্বপুরুষ চা শ্রমিক এর উপর নির্বিচারে অত্যাচার করা হয়েছিল।

শতবর্ষ(১৯২১-২০২৬) ঐতিহাসিক ” মুল্লুকে চলো” চা শ্রমিক দিবসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে ২০মে রোজ বুধবার সকাল ১১ ঘটিকার সময় আলোচনা সভা ও স্মরণ সভা” আয়োজন করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটি। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ” চা শ্রমিক ঐক্য গড়ি,প্রাণের দাবী আদায় করি”।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী বলেন চা শ্রমিকরা ভারতের একপ্রান্ত হইতে অন্যপ্রান্তে কাজের জন্য স্থানান্তর হয়েছেন। ” মুল্লুকে চলো” দীর্ঘ ১মাস বেশি সময় ধরে চাঁদপুর পদ্মানদী লঞ্চ ঘাটে পৌছে। গোর্খা বাহিনী নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। লাশ গুম করার জন্য পেট কেটে পানিতে ফেলে দেয় যাতে লাশ পানিতে ডুবে যায়। নদীতে কুমির খেতে পারে। পদ্মা নদী পানি রক্তে লাল হয়ে গেছে। এরকম জঘন্য হত্যাকান্ড দেখে তৎকালীন সময়ে একমাত্র রেলওয়ে শ্রমিক সংগঠণ প্রতিবাদ জানান। তিনি আরও বলেন নির্যাতনের ধংস কৌশল বদলে গেছে কিন্তু চা শ্রমিক এখনো নির্যাতিত হচ্ছে। ২০মে ‘মুল্লুকে চলো ‘ চা শ্রমিক দিবস হিসেবে মজুরীসহ সরকারি ছুটির দাবী স্বীকৃতি জানান।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন ১’লা মে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে মে দিবস সারা বিশ্বে পালন করা হচ্ছে। আর ২০ মে চা শ্রমিক দিবস ” মুল্লুকে চলো পূর্বপুরুষ স্মরণে ২ ঘন্টা কর্মবিরতি নতুবা ১ দিন মজুরী না নিয়ে এই দিবসটি পালন করি। তিনি আরও বলেন এদিন হতাহতের দিন,দুঃখের দিন। প্রতিটি চা বাগানের ছাত্রযুব, চা শ্রমিক সমাজ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে চা শ্রমিক দিবস” মুল্লুকে চলো” পালন করে বৃহত্তর আন্দোলন ও সরকারি ছুটি দিবস দাবীতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। ১(এক)দিনের মজুরী দিয়ে এইদিবস পালনে সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।

কার্যকরি সভাপতি বৈশিষ্ট্য তাঁতীর সভাপতিত্বে বক্তব্যে প্রদান করেন বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা,সাংগাঠণিক সম্পাদক কর্ণ তাঁতীসহ ভাড়াউড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি,খাইছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি, ফুলছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি,কালিঘাট চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি,সাতগাঁও চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি,উত্তরবাগ চা বাগান সভাপতি,বড়থল চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি,লস্করপুর ভ্যালীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


More News Of This Category
bdit.com.bd