দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন জুলাই যোদ্ধা খাঁন মোহাম্মদ সামি

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ, তরুণ ছাত্রনেতা খাঁন মোহাম্মদ সামি দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরে তিনি প্রথমেই ছুটে যান অসুস্থ সহযোদ্ধা মোফাজ্জল চৌধুরী মোর্শেদকে দেখতে।
২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় সিলেট নগরী ছিল উত্তাল। আন্দোলনের শুরু থেকেই সামনের সারিতে অবস্থান নেন সামি। জাতীয়তাবাদী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই তরুণ সে সময় হয়ে ওঠেন রাজপথের এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। টিয়ারশেলের ধোঁয়া, জলকামান ও গুলির শব্দে যখন পুরো শহর আতঙ্কে স্তব্ধ, তখনও তিনি রাজপথ ছাড়েননি।
আন্দোলনের বিভিন্ন সংঘর্ষে তিনি আহত হন এবং গুরুতর শারীরিক জটিলতার শিকার হন। সেই সময়ের একাধিক সহিংস ঘটনায় সাংবাদিক তুরাবের মৃত্যুও আন্দোলনকারীদের মধ্যে গভীর শোকের ছাপ ফেলে, যা আজও স্মৃতিতে বেদনার স্মৃতি হয়ে আছে।
৫ আগস্টের পর আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সামির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দীর্ঘদিন তিনি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি অবশেষে দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি যান সিলেটের ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল চৌধুরী মোর্শেদ।
হাসপাতালে দীর্ঘদিন পর দুই সহযোদ্ধার সাক্ষাতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের এই পুনর্মিলন উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
খান মোহাম্মদ সামির বাবা-মার ইচ্ছে ছিল তিনি লন্ডনে স্থায়ীভাবে থেকে ডাক্তারি পেশায় নিজেকে গড়ে তুলবেন এবং একটি আরামদায়ক ও বিলাসবহুল জীবনযাপন করবেন। তবে সামি সেই সুযোগ ও সম্ভাবনাকে প্রত্যাখ্যান করে জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ ও ছাত্ররাজনীতির প্রতি তার অটল ভালোবাসাকে অগ্রাধিকার দেন। দেশের মাটির টান, রাজনৈতিক আদর্শ এবং আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাকে দেশে ফিরতে উদ্বুদ্ধ করে।
বর্তমানে খাঁন মোহাম্মদ সামি সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্ররাজনীতির মাঠে তার সক্রিয় উপস্থিতি ও নেতৃত্ব স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।