• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

সিসিক নির্বাহী প্রকৌশলী রজি উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিপুল দুর্নীতি ও নকশাবহির্ভূত ভবনের অভিযোগ

Reporter Name / ৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

সিসিক নির্বাহী প্রকৌশলী রজি
উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিপুল দুর্নীতি
ও নকশাবহির্ভূত ভবনের অভিযোগ

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) মোঃ রজি উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে নকশাবহির্ভূত অবৈধ ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ঘুষ গ্রহণ, ঠিকাদারদের বিল আটকে কমিশন আদায় এবং ক্ষমতার দাপটে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন এক ভুক্তভোগী যুক্তরাজ্য প্রবাসী।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (বিএমজেএ) সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন নগরীর জলারপাড় ১৭ নম্বর বাসার বাসিন্দা প্রবাসী কয়সর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কয়সর রহমান জানান, জলারপাড়ের ১৮ নম্বর বাসায় বসবাসকারী সিসিক প্রকৌশলী রজি উদ্দিন খান ও তাঁর পরিবার ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও সেফটি গ্যাপ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কোনো অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ৩ ফুট রাস্তার ওপর দিয়ে অবৈধভাবে ৫ম তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি ১৮৮২ সালের সুবিধা অধিকার আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী প্রতিবেশীর ২০ বছরের আলো-বাতাস পাওয়ার আইনি অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ফায়ার এক্সিট বা সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় পুরো এলাকা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
অভিযোগ করা হয়, সিসিকের মাস্টার রোলে কাজ করা রজি উদ্দিন খান বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে নিজের অফিসকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছিলেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি স্ত্রী ও স্বজনদের নামে-বেনামে একাধিক গাড়ি, জমি ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। এছাড়া নগরীর গোয়াবাড়ী এলাকায় আনুমানিক এক কোটি টাকা মূল্যের নামফলকহীন বিলাসবহুল বাংলো, ৪৫ লাখ টাকার ব্যক্তিগত কার এবং আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্সে একাধিক স্কিম রয়েছে তাঁর। মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে নগরের একাধিক নকশাবহির্ভূত ভবনের অবৈধ অনুমোদন এবং মাস্টার রোল শ্রমিকদের ভুয়া সংখ্যা দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী জানান, গত বছরের ২০ নভেম্বর সিসিক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি সিলেট সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে স্বত্ব মোকদ্দমা (নং- ১৩/২০২৬) দায়ের করেছেন। এছাড়া চলতি বছরের ৩০ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেটে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সিসিক ও দুদকের কাছে অবিলম্বে উক্ত অবৈধ ভবন অপসারণ, একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, প্রকৌশলী রজি উদ্দিনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং দুদকের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।


More News Of This Category
bdit.com.bd