চুনারুঘাটের তেলিউপ্তা জামে মসজিদ নির্মাণে ভিবিন্ন অনিয়মের অভিযোগ 
আলা উদ্দিন চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিবেদকঃ চুনারুঘাটে তেলিউপ্তা জামে মসজিদ নির্মাণকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অর্থের হিসাব নিয়ে অস্পষ্টতা ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নির্মাণকাজের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং দ্রুত মসজিদ নির্মাণ সম্পন্ন করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. আনিস উল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) চুনারুঘাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি গ্রামবাসী ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আনিস উল্লাহ জানান, প্রায় ১৫ মাস আগে শারজাহ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি তেলিউপ্তা গ্রামের জামে মসজিদ নির্মাণের জন্য ২৬ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এ লক্ষ্যে কাজের সমন্বয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আলী, সচিব দুলাল মিয়া ও কোষাধ্যক্ষ ইউনুছ উল্লাহর সঙ্গে চুক্তি করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে চুক্তিপত্রে কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টরের নাম ও স্বাক্ষর না থাকা এবং সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিয়ে অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, কোম্পানির আশ্বাসে গ্রামের প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের পুরোনো মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে নির্মাণকাজ শুরু নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। তাঁর অভিযোগ, কাজ শুরুর আগে জজ মিয়া নামের এক ব্যক্তি কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টরের পক্ষে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। পরে গ্রামবাসী তাঁকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন। কাজ শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ পর ওই ব্যক্তিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে কোম্পানির পরিচয়ে আসা আরেক ব্যক্তি টাকা ফেরৎ আশ্বাস দিলেও তা ফেরৎ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মসজিদ নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও রড ব্যবহার এবং নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন আনিস উল্লাহ। তাঁর দাবি, ২৬ লাখ টাকার কাজের বিপরীতে বাস্তবে ১৪ লাখ টাকারও কম কাজ হয়েছে। তবে বরাদ্দ, ব্যয় ও সম্পন্ন কাজের পরিমাণ সম্পর্কে গ্রামবাসী ও মসজিদ কমিটির কাছে পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চুক্তি অনুযায়ী চার মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজ সম্পন্ন হয়নি। ফলে গ্রামের মুসল্লিদের একটি টিনের ঘরে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় মসজিদ নির্মাণে বরাদ্দকৃত অর্থ, উত্তোলিত বিল ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই, টাকা গ্রহণ ও ফেরতের আশ্বাসসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে মুসল্লিদের স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায়ের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা। আনিস উল্লাহ বলেন, কারও প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং মসজিদ নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার স্বার্থেই তাঁরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এ বিষয়ে শারজাহ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
আলা উদ্দিন চুনারুঘাট হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
মোবাইল ০১৭৪৩০৮১৭৩২