বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢোকার মুখেই মরণফাঁদ: কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষোভ
ইব্রাহিম খান ইমন
(সিলেট) সাংবাদাতা:
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশপথের বেহাল দশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। হাসপাতালের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের প্রবেশ পথে বড় একটি গর্ত তৈরি হয়ে থাকলেও তা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
ভোগান্তির চরমে রোগীরা
সরেজমিনে এবং প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, হাসপাতালের ঠিক প্রবেশপথের র্যাম্প (Ramp) বা ঢালু অংশটি ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই পথ দিয়েই মূলত স্ট্রেচার বা ট্রলিতে করে মুমূর্ষু রোগীদের ভেতরে নেওয়া হয়। ভাঙা এই অংশের কারণে ট্রলি যাতায়াতের সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে, যা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে হাড় ভাঙা বা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে এই সামান্য অবহেলা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়
সম্প্রতি এই ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। নেটিজেনরা বলছেন, “এক বস্তা সিমেন্ট আর সামান্য বালু-পাথর হলেই এই অংশটুকু ঢালাই করা সম্ভব। হাসপাতালের বড় বড় কর্মকর্তাদের নজরে কি এইটুকু ভাঙা জায়গা পড়ে না?”
অনেকে আবার আক্ষেপ করে বলছেন, সরকারি হাসপাতালে গরিব মানুষেরা চিকিৎসা নিতে আসে বলেই কি এই অবহেলা? ঢোকার মুখেই যদি এমন দশা হয়, তবে ভেতরের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
প্রবাসীর মানবিক উদ্যোগ
ফেসবুকে এই চিত্র দেখে এক প্রবাসী (বা সচেতন নাগরিক) সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ যদি ব্যর্থ হয়, তবে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এই সংস্কারের খরচ দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “ঢোকার মুখে এমন অবস্থা দেখে বুক ফেটে যায়। কেউ যদি আমাকে জানান, আমি আজই সংস্কারের টাকা পাঠিয়ে দেব।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হাসপাতাল আঙিনায় সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে এই গর্তটি কেন ভরাট করা হয়নি, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই প্রবেশপথটি সংস্কার করে রোগীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছেন।