• শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন

যশোরে এক মসজিদে ইতেকাফে বসেছেন বিদেশিসহ ১৬০০ মুসল্লি

Reporter Name / ২ Time View
Update : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

যশোরে এক মসজিদে ইতেকাফে বসেছেন বিদেশিসহ ১৬০০ মুসল্লি

আবু জাহেদ ইমন মনিরামপুর থেকে

পবিত্র রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিরা ইতেকাফে বসেন। এরই ধারাবাহিকতায় যশোরের একটি মসজিদে এবার বড় পরিসরে ইতেকাফে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মুসল্লি, যাদের মধ্যে ৭৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। ইতেকাফে অংশ নেওয়া বিদেশি মুসল্লিরা এসেছেন ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র এবং পানামা থেকে।
জানা গেছে, যশোরের রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা এলাকায় অবস্থিত আশরাফুল মাদারিস কম্পাউন্ডের মসজিদে এ বছর বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ইতেকাফে বসেছেন। সাধারণত ২০ রমজান থেকে সুন্নত ইতেকাফ শুরু হলেও এখানে ১ রমজান থেকেই অনেকে নফল ইতেকাফে বসেন। দিন যত গড়িয়েছে, মুসল্লির সংখ্যাও তত বেড়েছে। ২২ রমজান পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে সুন্নত ইতেকাফে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মুসল্লি।আশরাফুল মাদারিসের মহাপরিচালক মাওলানা নাসীরুল্লাহ জানান, তাদের মসজিদে কয়েক বছর ধরে বড় পরিসরে ইতেকাফ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো এখানে বৃহৎ পরিসরে ইতেকাফ আয়োজন করা হয়। এরপর থেকে দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড, চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া ও যশোরের মাছনা মাদরাসাসংলগ্ন মসজিদে বড় পরিসরে এতেকাফ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সতিঘাটায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল কম্পাউন্ডের ভেতরে চারতলাবিশিষ্ট একটি মসজিদ। যেখানে একসঙ্গে সহস্রাধিক মুসল্লি ইতেকাফে অংশ নিতে পারছেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ইফতার, রাতের খাবার ও সাহরির আয়োজন করা হচ্ছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। মাদরাসার শিক্ষক, কর্মচারী এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন।আশরাফুল মাদারিসের শিক্ষাসচিব হাফেজ মাওলানা সাব্বির আহমাদ জানান, শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সিলসিলার অনুসারীরা মূলত এখানে ইতেকাফে অংশ নেন। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকি এই সিলসিলার অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। তিনি যেখানেই অবস্থান করেন, তার অনুসারীরা দেশ-বিদেশ থেকে সেখানে সমবেত হন। এবার তিনি যশোরে অবস্থান করায় দেশ-বিদেশের বহু আলেম ও অনুসারী এখানে ইতেকাফে যোগ দিয়েছেন।ইতেকাফ চলাকালে নামাজের আগে দেশ-বিদেশের আলেমরা মুসল্লিদের উদ্দেশে নসিহত পেশ করেন। ভিন্ন ভাষায় দেওয়া বক্তব্য ও জুমার খুতবা মুসল্লিদের বোঝার সুবিধার্থে বাংলায় অনুবাদ করে শোনানো হয়।
স্থানীয় আলেমরা জানান, বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠুভাবে ইতিকাফের পরিবেশ বজায় রাখতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিদেশি মুসল্লিদের জন্য তাদের খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী আলাদা খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আশরাফুল মাদারিস প্রাঙ্গণে কথা হয় যশোর শহরের নলডাঙ্গা জামে মসজিদের খতিব মুফতি আরিফুল ইসলাম ফয়সালের সঙ্গে। তিনি জানান, বাংলাদেশি মুসল্লিদের জন্য যে খাবারের আয়োজন করা হয়, বিদেশিরা তা খেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। সে কারণে সংশ্লিষ্ট দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাদ্য প্রস্তুতের চেষ্টা করা হয়।যশোর শহরের দড়াটানা মসজিদের খতিব এবং দড়াটানা মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি আমানুল্লাহ কাসেমী এবার সুন্নত ইতিকাফে বসেছেন এখানে। তিনি বলেন, ইতেকাফে থাকা মুসল্লিদের খেদমতে যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে এখানকার খানকায়ে মাহমুদিয়ার ব্যবস্থাপনায়। মুসল্লিরা মূলত আল্লাহমুখী হওয়ার জন্য ইতিকাফে বসেন। ফলে উপযোগী পরিবেশ থাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসল্লি এখানে ইতিকাফে বসেছেন।


More News Of This Category
bdit.com.bd