• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন

পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টের শুরুর কথা

Reporter Name / ১৩৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫

পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে রাতারগুল সোয়াম্প
ফরেস্টের শুরুর কথা
এম এ রহিমঃ ২০০৮ সালের জানুয়ারী মাসে কোন এক বিকালে রাতারগুল গ্রামের বর্তমান নৌকা ঘাটে ক্ষেতের জমিনে ৩ (তিন) নৌকা দিয়ে ফিতা কেটে রাতারগুলে পর্যটন নৌকার উদ্বোধন করা হয়। পরদিন দৈনিক সিলেটের ডাক সহ স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়। একান্তভাবে রাতারগুল গ্রামবাসীকে নিয়ে এক প্রকার নিরবে এ কাজটি করেছিলেন, গোয়াইনঘাট উন্নয়ন ফোরামের ১১ দফা দাবীর রূপকার ও সংগঠনটির চেয়ারম্যান সাংবাদিক আনোয়ার হোসাইন।
এর পরদিন থেকে রাতারগুল নিয়ে লেখালেখির গতি অনেক গুন বেড়ে যায়। শুরু হয় রাতারগুল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দূর্বার স্বপ্ন। বলতে হবে যে, এই তিন ব্যক্তির পথ পদচারনার মধ্য দিয়েই পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে রাতারগুলের আবির্ভাব। প্রচারনা চালাতে কলম যুদ্ধের এ লড়াইয়ে শুরু থেকেই ছিলেন সাংবাদিক মনজুর আহমদ। সাথে ছিলাম আমি এম এ রহিম ধারাবাহিক ভাবে প্রথমে সিলেটের প্রিন্ট মিডিয়া গুলোতে নিউজ, ছবি, কলাম প্রচারিত হয়। মুল তত্ত্বভিত্তিক বড় বড় কলাম ও ছবি কাভারেজ করে গোয়াইনঘাট সংবাদ পত্রিকাটি। সালুটিকর বার্তা গোয়াইনঘাট ডাইজেস্টের নামও উল্লেখ করার দাবী রাখে। তার পর জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হওয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠে রাতারগুল।
ইতিহাস কখনো মুচেঁ যায় না। রাতারগুল কে তুলে আনতে পরিকল্পিত ও কৌশলী ভূমিকা, আম্বরখানায় নিজ হাতে লিফলেটিং প্রচারনা, সেই লেখনি এবং পদচারণায় এ তিন ব্যক্তির নাম নিঃসন্দেহে অবিস্বরনীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু আজ ওখান থেকে লাভবান হচ্ছেন কারা? অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার তো কথা ছিলনা!
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপাণীর অভয়ারণ্য, যা সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। সিলেট থেকে এ বনের দূরত্ব ২৬ কি.মি.। বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এটি পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি জলাবনের মধ্যে অন্যতম একটি। এই বনকে বনবিভাগের অধীনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। চিরসবুজ এই বন সারি গোয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত এবং চেঙ্গির খালের সাথে একে সংযুক্ত করেছে। এখানে সবচেয়ে বেশি জন্মায় করচ গাছ। (বৈজ্ঞানিক নাম- গরষষবঃঃরধ ঢ়রহহধঃধ)। বর্ষাকালে এই বন ২০৩০ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। বাকি সারা বছর, পানির উচ্চতা ১০ ফুটের মতো থাকে। তারপর ছোট ছোট খালগুলো হয়ে যায় পায়ে-চলা পথ। আর তখন পানির আশ্রয় হয় বন বিভাগের খোঁড়া বিলগুলোতে। সেখানেই আশ্রয় নেয় জলজ প্রাণীকুল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এখানে ভিড় করেন পর্যটকগণ। বনের ভিতর ভ্রমণ করতে দরকার হয় নৌকার, তবে সেগুলো হতে হয় ডিঙি নৌকা ডিঙিতে চড়ে বনের ভিতর ঘুরতে ঘুরতে দেখা যায় প্রকৃতির রূপসুধা। যাদের চেষ্টায় প্রচারিত সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল, তাদেরকে মূল্যায়ন করা দরকার মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
লেখক
এম এ রহিম
সম্পাদক, গোয়াইনঘাট সংবাদ
মোবাইল ঃ ০১৭১২-৯১২০৫৭


More News Of This Category
bdit.com.bd