ওসমানীনগরে আমের মুকুলে বসন্তের ছোঁয়া: সোনালি স্বপ্নের সুবাসে বিভোর কৃষক
ইব্রাহিম খান ইমন
ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের পুণ্যভূমি ও বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর স্মৃতিবিজড়িত ওসমানীনগর উপজেলায় বসন্তের আগমনে প্রকৃতি সেজেছে এক অপূর্ব সাজে। উপজেলার প্রতিটি গ্রাম এখন আমের মুকুলের ম ম গন্ধে মুখরিত। গাছে গাছে ফুটেছে হলুদাভ-সবুজ রঙের ক্ষুদ্রাকার ফুলের সমারোহ, যা কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, বরং স্থানীয় কৃষকদের মনে নতুন স্বপ্নের সঞ্চার করেছে।
প্রকৃতির অনন্য আয়োজন
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন এই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নেই এখন বসন্তের প্রাণবন্ত রূপ চোখে পড়ে। ভোরের সোনালি রোদে আমগাছের ডালে কোকিলের কুহুতান আর মৌমাছির গুঞ্জন মিলেমিশে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে। দোয়েল, শালিক আর ফিঙের কলকাকলিতে গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ যেন আরও সজীব হয়ে উঠেছে।
সম্ভাবনার হাতছানি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ বছর প্রায় প্রতিটি ছোট-বড় গাছেই প্রচুর মুকুল এসেছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। কৃষকদের কাছে এই মুকুল কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং একটি অর্থনৈতিক সচ্ছলতার প্রতীক। ভালো ফলন মানেই পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ, যা দিয়ে মেটানো যায় সন্তানদের পড়াশোনার খরচ কিংবা ছোটখাটো ঋণ।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ খরা বা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তামিমা জানান:
”আমের মুকুল আসা মানেই একটি সম্ভাবনাময় মৌসুমের শুরু। তবে পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে মুকুল রক্ষায় কৃষকদের এখন থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছি। আবহাওয়া সহায় থাকলে এবার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।”